নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ দশম সাক্ষ্য

নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ দশম সাক্ষ্য ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৩৫, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আজ দশম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, আজ রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। এর আগে গত ৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকলেও অন্য একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ থাকায় সময় চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ১২ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় নবম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী।

চার আসামি কারাগারে, নানক-তাপসসহ অনেকে পলাতক
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক এবং যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি।

অন্যদিকে নানক ও তাপস ছাড়াও পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি রওশুনুল হক, এম এ সাত্তার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন এবং শেখ বজলুর রহমান। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মীও আসামির তালিকায় রয়েছেন।

তিন অভিযোগে বিচার চলছে
প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় আসামিদের প্রত্যক্ষ উসকানি, নির্দেশ ও অংশগ্রহণে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজ ও মাহমুদুর রহমান সৈকতসহ নয়জন নিহত হন এবং বহু আন্দোলনকারী আহত হন।

মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম চলছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement