বাংলাদেশকে স্বস্তির বার্তা দিল ইরান

বাংলাদেশকে স্বস্তির বার্তা দিল ইরান ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:৫৭, ১০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে ইরান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হলে তেহরান জানিয়েছে,

বাংলাদেশের জন্য তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

এর জবাবে ইরান জানায়, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো প্রণালিতে প্রবেশের আগে তাদের অবহিত করা হলে সেগুলোকে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল তা কিছুটা কমেছে।

এদিকে ২৭ হাজার টন ডিজেল বহনকারী একটি ট্যাংকার সিঙ্গাপুর থেকে এসে সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের সম্ভাব্য চাহিদা মেটাতে বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্বাভাবিক সময়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা থাকে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার টন করে সরবরাহ দিচ্ছে। আসন্ন পাঁচটি চালানে মোট প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি দেশে পৌঁছালে তা দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের জাতীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

এদিকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন ও ভারত। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং আপাতত বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশকে জ্বালানি সহায়তা দিতেও চীন প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, ওমান ও কুয়েতসহ মোট আটটি দেশ থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করে থাকে।

সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বাজার তদারকি জোরদার করেছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করেছে। একই সঙ্গে মজুতদারি ও অনিয়ম ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement