রংপুরে আঁকা চিত্র দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে

রংপুরে আঁকা চিত্র দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে ছবি: সংগৃহীত

রংপুর প্রতিনিধি

Published : ২১:১৬, ৭ নভেম্বর ২০২৫

রংপুরে আঁকা চিত্র দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ ইংল্যান্ড, ভারত, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। ছোট বেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় শখের বশে রংতুলি নিয়ে সময় কাটাতেন নবনূর আলী। জীবনের প্রয়োজনে সেই ছবি আঁকাকেই এখন তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

স্মাট, ডিজিটাল ও আধুনিক যুগে হাতে আঁকা পোস্টার-ব্যানারের চিন্তা করার মত সময় মানুষের নেই। সব ডিজিটাল হয়ে গেলেও নবনূর আলীর আঁকা ছবির কদর কমেনি, বরং বেড়েছে। দেয়াল লিখন বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছবি আঁকার ক্ষেত্রে রংপুরে তাঁর বিকল্প নেই।

সারাদেশে ছবি বেচার দোকানগুলোতে তাঁর আঁকা চিত্রের চাহিদা রয়েছে। ৬৫ বছর বয়সেও নবনূর আলী সমানতালে ছবি এঁকে চলছেন। নগরীর নিউ জুম্মাপাড়া এলাকায় তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম নবনূর আর্ট। তিনি বলেন, একসময় রংপুর শহরে অনেক আর্টের দোকান ছিল।

হাতে আঁকা পোস্টার-ব্যানার তখন অপরিহার্য ছিল। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে অনেক শিল্পী পেশা পরিবর্তন করেছে। কিন্তু তিনি শখের বশে শুরু করা আঁকাআঁকির মায়া ত্যাগ করতে পারেনি। রংপুর নগরীর পায়রা চত্ত্বরের এক বিক্রেতা বলেন, আর্টের দোকানগুলোর পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নবনূরের আঁকা চিত্রগুলোর চাহিদা রয়েছে।

মনের মাধুরী মিশিয়ে নবনূর রংতুলিতে প্রতিটি ছবি আঁকেন। তাঁর আঁকা ছবি সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। হুবহু যে কোনো কিছু এঁকে দিতে পারেন তিনি। নবনূরের কাছে এখন দেশের বিভিন্ন এলাকা এমনকি দেশের বাইরে থেকেও ছবির অর্ডার আসে।

এরই মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাঁর চিত্রকর্ম সরবরাহ করা হয়েছে। ইংল্যান্ড, ভারত, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে তিনি একাধিক চিত্রকর্ম পাঠিয়েছেন। এক ব্যবসায়ী বলেন, নবনূর একজন ভালো শিল্পী। তাঁর কাছে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ কাজ করাতে আসে।

এখন বিদেশেও তাঁর ছবির চাহিদা বাড়ছে। নবনূর বলেন, আঁকাআঁকি তাঁর কাছে নেশার মতো। অন্য কিছুতে তাঁর মন টেকে না। এই নেশার কারণে পরিবার ও অনেকের কাছ থেকে তাঁকে নানা কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনও আঁকা ছাড়েননি।

পড়াশোনা ভালো না লাগায় তিনি এসএসসি পাশ করা আগেই লেখাপড়া ছেড়ে দেন। প্রথমদিকে ব্যানার, পোস্টার লিখতেন। দেয়ালে ছবি আঁকতেন। দ্রুত তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। রংপুর শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থানও অর্জন করেন।

কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতি আসার পর তাঁর মতো অনেক শিল্পীর কাজ কমে গেছে। তিনি বলেন, শখের বশে আঁকা চিত্রগুলো ফেসবুকে দিলে প্রথম দিকে মানুষ প্রশংসা করত। একদিন হঠাৎ অনলাইন থেকে অর্ডার আসে। সেই থেকে শুরু। এখন দেশ-বিদেশ থেকে সরাসরি অনলাইনে অর্ডার আসছে।

তিরি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আঁকার প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়েছে। ছবির দাম সেই তুলনায় বাড়েনি। চিত্রকর্ম টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের উচিত এখনই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া। তা না হলে ভবিষ্যতে ভালো কোনো চিত্রশিল্পী পাওয়া যাবে না।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement