কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশিকে ঘিরে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
Published : ১৪:৪১, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশিকে ঘিরে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য ও জাল নথি ব্যবহার করে ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। এসব আবেদন করা হয়েছিল কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশে।
কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) গত ২২ অক্টোবর এ তথ্য জানায়। সংস্থাটির অভিযোগ, ভিসাপ্রার্থীদের আবেদনে কানাডার নাগরিকদের আমন্ত্রণকারী বা আতিথ্যদাতা হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল।
অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সিবিএসএ জানিয়েছে, ২৪৩টি ভিসার আবেদনের মধ্যে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে বলে মনে করা ৭৯টি আবেদনকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।
২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মারসিয়ে শহরের একটি বাসায় বসবাসকারীদের বিষয়ে নিয়মিত যাচাই চালানোর সময় বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। ওই অভিযানে সিবিএসএর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বিভাগের সদস্যরাও অংশ নেন। কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়ার পর একই বছরের আগস্টে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওতে চারটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন তদন্তকারীরা। ওই সময় সংগ্রহ করা নথি ও কম্পিউটার সরঞ্জামের মাধ্যমে পাঁচ অভিযুক্তের সঙ্গে কথিত জালিয়াতির যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কানাডায় প্রবেশে সহায়তার ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে উৎসাহিত করা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কানাডার অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে ১৯১টি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ৫৫টি তদন্ত শুরু হয়েছে।
সূত্র: কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)।
































