ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে ছাত্রলীগ নেতা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
Published : ১২:৪৮, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের অভিযানের সময় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল আলম শাহীনকে (৩০) ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর গ্রামের একটি ফুটবল মাঠের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্যে জানা গেছে।
সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজুল আলম শাহীন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরক ও মাদকসহ একাধিক মামলায় তিনি আসামি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে রঙতরঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ শুরু হয়। খেলার উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। এ সময় সেখানে খেলা দেখতে যান শাহীন। পরে তাঁর অবস্থান জানতে পেরে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, শাহীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে শাহীনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলা হয়। পরে পুলিশের কাছ থেকে তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে শাহীনকে হাতকড়া পরানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাহীনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, মামলাগুলো ২০১৬ সালের ২ আগস্ট, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তা অস্বীকার করেছেন।
সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না; কাছের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। সেখান থেকে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি দেখেছেন। তাঁর দাবি, শাহীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলেই পুলিশ তাঁকে আটক করতে গিয়েছিল। রাজনৈতিক কারণে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপনও অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে তাঁর নাম এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, তিনি পুলিশকে বারবার আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে বলেছেন।
আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মাজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি একটি বিশেষ অভিযানে আছেন এবং বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। পরে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, রিয়াজুল মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে পালাতে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ করেন ওসি।
তবে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন ওসি। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।






























