এসআইআর বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ, আটক
Published : ১১:৫৮, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার পথে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।
দিল্লির কনট প্লেস এলাকার বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারা থেকে প্যাটেল চকের কাছে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় পর্যন্ত এ মিছিলের আয়োজন করে ‘পিপল অ্যাগেইনস্ট এসআইআর’ নামের একটি জোট। শিক্ষার্থী, কৃষক ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন নিয়ে সপ্তাহখানেক আগে জোটটি গঠিত হয়। শুক্রবারের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও।
গত ১৮ অক্টোবরের এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আয়োজিত এ মিছিলের জন্য তারা পুলিশের অনুমতি নেবে না। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ না করতে পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি সতর্কবার্তা দেয় তারা। ‘প্রতিটি গলি যন্তর মন্তর, প্রতিটি গ্রাম যন্তর মন্তর, আমার বাড়িই যন্তর মন্তর’ স্লোগান সামনে রেখে ‘নো এসআইআর’ প্রচারাভিযান চালানোর পরিকল্পনাও করেছে জোটটি।
এদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার কেরালায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) ও সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলো। এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে রাজ্যের নতুন গভর্নর ওম প্রকাশ মাথুরের দায়িত্ব গ্রহণের দিনই লোকভবন অভিমুখে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
একই দিন পাঞ্জাব বিধানসভায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা। প্রস্তাবে জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার নিবন্ধন হালনাগাদে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) ও তাদের জোটসঙ্গীরাও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে। শুক্রবার চেন্নাইয়ের সচিবালয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা অর্চনা পট্টনায়েকের নেতৃত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে বেরিয়ে রাজ্যের আইনমন্ত্রী সি টি আর নির্মল কুমার সাংবাদিকদের বলেন, এসআইআর চলাকালে ব্যাপক ভুলত্রুটি হয়েছে। এসবের দায় নিয়ে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন।
অন্যদিকে, সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা শুক্রবার দুপুরে দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় হাজির হন। তাদের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলার তদন্তে অংশ নিতে পুলিশ তলব করলেও বৃহস্পতিবার তারা থানায় যাননি। থানার বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৌরভ বলেন, পুলিশের কাছে কী ঘটে, তা দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখা সৌরভ, রাঙ্কা ও সিজেপির সদস্য অজিঙ্কা শিন্ডেকে দুটি মামলার তদন্তে অংশ নিতে নোটিশ দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে তারা হাজির হননি।
এদিকে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিরোধও নতুন করে সামনে এসেছে। কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়াই ওই কর্মকর্তা দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করেন। তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় থেকে পাওয়া ১৪ পৃষ্ঠার সরকারি নথির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের কারণে সরকারের সমালোচনা এবং ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনগুলোর কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’-এর মূল বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে মোদি দলটিকে ‘মানসিক নকশাল’ ও ‘ব্যর্থ পণ্য’ বলেও অভিহিত করেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভি।































