টাইফুন চাম্পিতে তাইওয়ানে নিহত ১, আহত ৩৫০
Published : ১১:১৯, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী টাইফুন চাম্পির আঘাতে বিপর্যস্ত তাইওয়ান। ঝড়ের প্রভাবে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৫০ জনের বেশি। বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে, বন্ধ রয়েছে দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু পরিবার। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাছ দিয়ে বয়ে যায় টাইফুনটি। ঝড়ের প্রভাব আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চীন ও জাপানের দিকে ঝড়টি অগ্রসর হওয়ায় পুরো অঞ্চলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ঝড়টির প্রভাব থাকতে পারে। দ্বীপটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে কিছু এলাকায় মোট বৃষ্টিপাত ৯০০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। শুক্রবার ইয়িলান কাউন্টিতে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ লিন পিং-ইউ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত তাইওয়ানের বিভিন্ন স্থানে প্রবল বাতাস ও ঝোড়ো আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দেন তিনি।
আরেক আবহাওয়াবিদ লু কুও-চেনের মতে, টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের কাছে ধীরগতিতে এগোতে পারে। এর ফলে দ্বীপটিতে ঝড়ের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাম্পি একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল, তখন বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটারে পৌঁছেছিল। পরে এর শক্তি কমে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টির সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। শক্তি হ্রাস পেলেও ভারী বৃষ্টি ও দমকা বাতাসের কারণে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়ে গেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।
তাইওয়ানের পাশাপাশি জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জেও চাম্পির প্রভাব পড়েছে। ওকিনাওয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির তথ্য বলছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন ছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুনটি প্রথমে ওকিনাওয়ার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে। এরপর চীনের পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে এগিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে জাপানের মূল ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝড়ের কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। এদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলতি মৌসুমে একের পর এক শক্তিশালী ঝড়ের পেছনে এল নিনোর প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যার সময় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটতে পারে।
বুধবার বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো সতর্ক করে জানান, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি অস্বাভাবিক শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এমনকি গত চার দশকে পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত মানদণ্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বরে এল নিনোর প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং এর প্রভাব ২০২৭ সাল বা তার পরও অব্যাহত থাকতে পারে।
































