ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার
Published : ১২:২৯, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ফ্রান্সের পর এবার বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইতালি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির রাজধানী রোমসহ তুরিন ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি শহরে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি।
শনিবার ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। দেশটির সংবাদ সংস্থা আনসার তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়েছে।
তুরিনে বিক্ষোভের একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও আতশবাজি ছুড়লে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।
রাজধানী রোমেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। মিছিল চলাকালে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ছোড়ার খবর পাওয়া যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ চলাকালে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে ইতালির কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে মিলান, পার্শ্ববর্তী শহর মনজা এবং আরও ২০টি শহরের দেড় শতাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের সদস্যদের হুমকি দেওয়া, তাঁদের ওপর হামলার পরিকল্পনা, যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং বিভিন্ন ভবনে আগুন দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এসব তল্লাশি চালানো হয়।
তদন্তকারীরা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। গত সপ্তাহান্তের অস্থিরতার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন এবং কীভাবে সহিংসতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি। তাঁর ভাষ্য, নিরাপত্তার দিক থেকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত শহরগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর বলে জানিয়েছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

































