সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, বাড়ছে উত্তেজনা

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, বাড়ছে উত্তেজনা ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১১:৪৩, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর মক্কা, মদিনাসহ বিভিন্ন এলাকায় সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, পবিত্র দুই নগরীকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে অধিদপ্তরটি জানায়, ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ মক্কার বাইরের ওয়াদি মুগামাস, জেদ্দার আল-নুজহা, তায়েফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিঘের একটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। তবে এসব ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। তাঁর দাবি, সৌদি আরবের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতি বাহিনী। এসব দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের চারটি প্রদেশে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্কতা জারি করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এসব অঞ্চলের মধ্যে মক্কাও ছিল। সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাটি জরুরি পরিস্থিতি ও দুর্যোগের সময় বেসামরিক নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কাজ করে।

হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, শুক্রবার ও শনিবার সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল তিনটি বিমানবন্দর, দুটি তেল স্থাপনা, একটি তেল পাইপলাইন এবং একটি বিমানঘাঁটি।

তিনি আরও দাবি করেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দাম্মাম ও নাজরান অঞ্চলের বিমানবন্দর এবং দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু ছিল।

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিমাঞ্চলে তেল পরিবহনের পাইপলাইন এবং অপরিশোধিত তেল পাম্প করার কয়েকটি স্থাপনাতেও হামলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা।

সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পাশাপাশি সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার উত্তেজনাও বেড়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতির ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সীমান্তের দুই পাশে হামলা অনেকটাই কমে এসেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে। অন্যদিকে, দেশটির রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ এখনো হুতিদের হাতে রয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement