নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ফলপ্রসূ হবে না: রিজওয়ান

নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ফলপ্রসূ হবে না: রিজওয়ান ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২০:০০, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সংশয় ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, যাতে তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। তবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষ যথেষ্ট সচেতন এবং এ ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না।

তিনি বলেন, জনগণই তাদের নেতা নির্বাচন করবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। সে জন্য তারা সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট—উভয় প্রক্রিয়াতেই সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, পরিবর্তন ও সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার জনগণকে গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী কী সুফল মিলবে এবং ‘না’ ভোট দিলে কী কী সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হবে—এই বিষয়গুলো জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ কী পাবে, তা সরকার ব্যাখ্যা করছে। একইভাবে ‘না’ ভোট দিলে কী কী পাওয়া যাবে না, সেটাও জানানো হচ্ছে। কেউ যদি ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার করতে চায়, সেটি তাদের রাজনৈতিক বা দলীয় সিদ্ধান্ত—এতে বাধা দেওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা পুনরায় বলেন, আগেও যেমন বলা হয়েছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা ১২ ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে—ইনশাআল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সংশয় তৈরি করা হচ্ছে, যেন তারা অনিশ্চয়তায় থাকে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিও একটি কৌশলের অংশ—যেন মানুষ মনে করে, কেউ না থাকলে নির্বাচন হবে না।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আবারও জোর দিয়ে বলেন, দেশের মানুষ সচেতন। এসব প্রোপাগান্ডায় তারা বিভ্রান্ত হবে না। তারা সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট—দুটিতেই অংশ নিয়ে নিজেদের নেতা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, অভিযোগ আসতেই পারে—এটা অস্বাভাবিক নয়। কেউ যদি মনে করে তার এলাকায় কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় ঘটছে, তাহলে নির্বাচন কমিশনে জানাতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব আইনেই এসব অভিযোগের প্রতিকার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সব ৩০০ আসনে এমন অভিযোগ নেই। যদি এক-দুটি জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনই তার সমাধান দেবে। অভিযোগ জানানোর পরও যদি প্রতিকার না পাওয়া যায়, তখন সেটি অবশ্যই বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement