রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি
Published : ১৬:৪৭, ২৭ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ থাকবেন। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি দল, সংসদ ও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন তিনি সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষ। দায়িত্ব পালনকালে কারও প্রতি ব্যক্তিগত রাগ বা অনুরাগ থাকবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জন, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করাই হবে তার লক্ষ্য।
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।
বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বঙ্গভবন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তসংক্রান্ত তথ্য কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি, যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।
রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি অপচয় রোধের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। সরকারি সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা জনগণের অর্থে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে তিনি এসব সম্পদের স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিজীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
এ সময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশ ও রাষ্ট্রগঠনে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতিকেও স্মরণ করেন।
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সবাই একই জায়গায় কাজ করেন। সুযোগ পেলে পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।






























