শ্যামলী পরিবহনে টানেল টোলের নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে

শ্যামলী পরিবহনে টানেল টোলের নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি রিপোর্ট

Published : ১৭:৩৩, ২৭ আগস্ট ২০২৬

শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা–বান্দরবান রুটের একটি বাসে কর্ণফুলী টানেল পারাপারের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের দাবি, টিকিটের নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে প্রত্যেকের কাছ থেকে আরও ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বাসের সুপারভাইজার এ অর্থকে ‘টানেল টোল + ফুয়েল ফি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

গত ২৫ আগস্ট রাত ১১টায় ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল শ্যামলী পরিবহনের একটি বিজনেস ক্লাস বাসের। এক যাত্রীর পাঁচটি টিকিটের মোট মূল্য ছিল ৭ হাজার ৬৬০ টাকা। ওই যাত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাসটিতে প্রায় ২৮ জন যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

যাত্রীদের ভাষ্য, বাস চলাচলের সময় একজন সুপারভাইজার জানান, বাসটি কর্ণফুলী টানেল দিয়ে যাবে। এ বিষয়ে কারও আপত্তি আছে কি না জানতে চাইলে যাত্রীরা জানান, অন্যদের আপত্তি না থাকলে তাদেরও আপত্তি নেই। তবে টানেল পার হওয়ার পর প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়।

এ সময় যাত্রীদের জানানো হয়, ওই অর্থ টানেল টোল ও জ্বালানি খরচের জন্য নেওয়া হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো লিখিত হিসাব বা রসিদ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

অভিযোগকারী এক যাত্রী বলেন, বিজনেস ক্লাসের জন্য তারা ইতোমধ্যে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করেছেন। যাত্রাপথে টানেল ব্যবহার করা হবে এবং এর জন্য আলাদা কোনো চার্জ দিতে হবে—এমন তথ্য টিকিটে উল্লেখ ছিল না। যদি অতিরিক্ত ১০০ টাকা কোনো বৈধ ও নির্ধারিত চার্জ হয়ে থাকে, তাহলে এর আনুষ্ঠানিক ভিত্তি ও হিসাব যাত্রীদের জানানো উচিত।

যাত্রীদের প্রশ্ন, টানেল ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক টোল থাকলে যাত্রীপ্রতি ১০০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায়ের ভিত্তি কী। একই সঙ্গে প্রায় ২৮ জনের কাছ থেকে সংগৃহীত ২ হাজার ৮০০ টাকা প্রকৃত টানেল টোল ও অন্যান্য খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা পর বাস ছাড়ার অভিযোগ
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পাশাপাশি বাসটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ছেড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

টিকিট অনুযায়ী, বাসটির ঢাকা ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল রাত ১১টা। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, বাসটি শেষ পর্যন্ত রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে। এমনকি রাত ১২টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বাসটি কাউন্টারে পৌঁছানোর পরও যাত্রীদের আরও প্রায় এক ঘণ্টা বাসের ভেতরে অপেক্ষা করতে হয়।

গভীর রাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো এবং বিলম্বের বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা না দেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি যাত্রীদের
শ্যামলী পরিবহনের কাছে যাত্রীরা জানতে চেয়েছেন, যাত্রীপ্রতি অতিরিক্ত ১০০ টাকা নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ভিত্তি কী, প্রায় ২৮ জনের কাছ থেকে সংগৃহীত ২ হাজার ৮০০ টাকার পূর্ণ হিসাব কোথায় এবং প্রকৃত টানেল টোল ও অন্যান্য খরচ কত ছিল।

এ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি কেন এবং নির্ধারিত রাত ১১টার পরিবর্তে রাত ১টা ৩০ মিনিটে বাস ছাড়ার কারণ কী—এসব বিষয়েও ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তারা।

অভিযোগকারী ওই যাত্রী জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজরে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত টানেল টোল, যাত্রীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে শ্যামলী পরিবহনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement