মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি: অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বাংলাদেশ
Published : ১১:২৩, ২৭ আগস্ট ২০২৬
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ বিবেচনার ক্ষেত্রে দেশের জাতীয় স্বার্থ ও পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার এবং যৌথ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিন দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই উদ্যোগের লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখা।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এমন কোনো কাঠামো নিয়ে আলোচনা হলে ঢাকা তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে পারে। তবে বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচনা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে। পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও ঢাকা কাজ করছে।
মক্কা চুক্তির পর তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে অন্য দেশও এই কাঠামোতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে তুরস্ক জানিয়েছে, চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও চুক্তিটিকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চুক্তির আওতায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করবে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে সমন্বয়, যৌথ মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি তাই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামোতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রয়োজন, অর্থনৈতিক স্বার্থ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্যকে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাংলাদেশের সামনে নতুন একটি কৌশলগত সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এতে যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
































