নতুন পে-স্কেলে মূল বেতনের ভিত্তিতে মিলবে প্রচলিত শতাংশভিত্তিক ভাতা

নতুন পে-স্কেলে মূল বেতনের ভিত্তিতে মিলবে প্রচলিত শতাংশভিত্তিক ভাতা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:৫১, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় না থাকা মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতাগুলো আপাতত ২০২৬ সালের ৩০ জুনে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে হিসাব করে দেওয়া হবে। পরবর্তী নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত এ পদ্ধতি বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা সোমবার (১৯ অক্টোবর) সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম। নির্দেশনাটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়েছে বলে এতে উল্লেখ রয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থা ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মচারী চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাভুক্ত নন এবং মূল বেতনের শতাংশ অনুযায়ী প্রচলিত ভাতা পান, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে। এসব ভাতা নির্ধারণ ও পরিশোধে ২০২৬ সালের ৩০ জুনে প্রাপ্ত মূল বেতনকে ভিত্তি হিসেবে ধরতে হবে।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। ফলে গেজেট প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য বেতন সরকারি কর্মচারীরা বকেয়া হিসেবে পাবেন।

নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে পুরোপুরি কার্যকর না করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নবম গ্রেড ও তার ওপরের গ্রেড এবং দশম থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির পার্থক্য পরিশোধের হার আলাদা রাখা হয়েছে।

২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মচারীরা নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং ৩০ জুনে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। দশম থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এ হার ৫০ শতাংশ।

পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্বদের বেতন পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে।

নতুন স্কেলে বিভিন্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক ও সর্বোচ্চ বেতনও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রেডভিত্তিক নির্ধারিত বেতনের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।

গ্রেড ১ থেকে ৪: গ্রেড-১-এর বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড-২-এর প্রারম্ভিক বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা হয়েছে; সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। গ্রেড-৩-এর বেতন ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং গ্রেড-৪-এর বেতন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রেড ৫ থেকে ৮: গ্রেড-৫-এর বেতন ৮৬ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা। গ্রেড-৬-এর প্রারম্ভিক বেতন ৭১ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। গ্রেড-৭-এর বেতন ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা এবং গ্রেড-৮-এর বেতন ৪৬ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রেড ৯ থেকে ১২: গ্রেড-৯-এর বেতন ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা। গ্রেড-১০-এর প্রারম্ভিক বেতন ৩২ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা। গ্রেড-১১-এর বেতন ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১২-এর বেতন ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা করা হয়েছে।

গ্রেড ১৩ থেকে ১৬: গ্রেড-১৩-এর বেতন ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা। গ্রেড-১৪-এর বেতন ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা। গ্রেড-১৫-এর বেতন ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা এবং গ্রেড-১৬-এর বেতন ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রেড ১৭ থেকে ২০: গ্রেড-১৭-এর বেতন ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা। গ্রেড-১৮-এর বেতন ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা। গ্রেড-১৯-এর বেতন ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এর বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কেও গেজেটে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ জুন বা তার আগে কোনো কর্মচারী যে মূল স্কেল, উচ্চতর গ্রেড কিংবা অন্য কোনো গ্রেড বা স্কেলে বেতন পেতেন, ১ জুলাই থেকে তার বিপরীতে নির্ধারিত নতুন অনুরূপ স্কেল প্রযোজ্য হবে।

কোনো কর্মচারী পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেলে নতুন স্কেলেরও শুরুর ধাপে তাঁর বেতন নির্ধারিত হবে। তবে প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেলে পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের সঙ্গে তাঁর বর্তমান বেতনের পার্থক্য হিসাব করা হবে। সেই পার্থক্য নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।

যোগফল নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে মিলে গেলে সেই ধাপে বেতন স্থির হবে। আর কোনো ধাপের সঙ্গে সরাসরি না মিললে তার পরবর্তী উচ্চতর ধাপ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে।

গেজেটে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ জুন কোনো কর্মচারীর মূল বেতন ৯ হাজার ৩০০ টাকা থাকলে ১ জুলাই থেকে নতুন স্কেলে তাঁর প্রারম্ভিক বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা। এ পদ্ধতিতে কর্মচারীদের শুধু প্রারম্ভিক বেতন নয়, চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ের বেতনও নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement