ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, স্বয়ংক্রিয় মামলা
Published : ১৭:৫৭, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরা। এর মাধ্যমে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় চালকদের বিরুদ্ধে এআই-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মোট ৫৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলায় রয়েছে ৩৫ কিলোমিটার। ব্যস্ত এই সড়কে অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কমাতে পুরো এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার আওতায় এনে সার্বক্ষণিক নজরদারির পরিকল্পনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সূত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায় ৫৮৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫২ জন এবং আহত হয়েছেন ৯৫০ জন।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় মহাসড়ক এআই ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের আওতায় এসেছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এ প্রযুক্তি চালু করে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সড়ক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ বেপরোয়া গতি। এ কারণে এক্সপ্রেসওয়ের পুরো অংশকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং অন্যান্য সড়ক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় চালকদের বিরুদ্ধে এআই-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলা করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে এক্সপ্রেসওয়েতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু হলে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং কমবে। পাশাপাশি চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং তাঁরা সড়ক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হবেন। এর ফলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্ঘটনা কমাতে সহায়তা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের গতিসীমা-সংক্রান্ত নির্দেশনা, সাইন ও মার্কিং রয়েছে। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।
তবে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা, সড়ক আইন না মানা এবং ঘন কুয়াশার কারণে এ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় এআই ক্যামেরার নজরদারি চালু হলে আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকির ওপর।
সুত্র : বাসস





























