৯ম পে-স্কেলের দাবিতে আল্টিমেটাম

৯ম পে-স্কেলের দাবিতে আল্টিমেটাম ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৪৬, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ঘোষিত ৮ম পে-স্কেলে ১১-২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। সেই সময় থেকেই এ বৈষম্য দূর করার দাবিতে বিভিন্ন আবেদন, স্মারকলিপি ও কর্মসূচি পালন করা হলেও তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

এমনকি অতীতের কোনো সরকারই সংগঠনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেনি বলেও দাবি করা হয়। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের আমলে ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে দুটি পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, গত ১১ বছরে নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা আর্থিকভাবে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে ছয় সদস্যের একটি পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও একই দাবি উপস্থাপন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে একটি পে-কমিশন গঠন করা হয় এবং কমিশন তাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়। তবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘদিন পে-স্কেল না হওয়া এবং বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল কার্যকর করা জরুরি।

সংগঠনের ২০ ফেব্রুয়ারির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

১. ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন।

২. একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতারা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবেন।

৩. পবিত্র রমজান মাসজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সরকার যদি দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement