নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব জনসমক্ষে আনলেন আসিফ মাহমুদ

নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব জনসমক্ষে আনলেন আসিফ মাহমুদ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২১:৩৮, ৪ মার্চ ২০২৬

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিতে ব্যাংক হিসাবের বিবরণ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে তার আয়-সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী জমা দিয়েছেন। এরপরও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা-কল্পনা ও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিভ্রান্তি দূর করতে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন মনে করেছেন। যাতে এ নিয়ে আর কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে।

তিনি জানান, প্রথমে কেবল নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে পরে স্বচ্ছতার স্বার্থে পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাবও প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে কোনো প্রশ্নের অবকাশ না থাকে।

এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, তার বাবার মোট পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে মোট জমা আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। তবে তার বাবা একজন শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন, যার কিস্তি প্রতি মাসে বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। বর্তমানে ওই সার্ভিস লোনের বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সে হিসাবে মোট জমা অর্থ বাদ দিলে এখনও প্রায় ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনায় আছেন তার বাবা।

তিনি আরও বলেন, তার মায়ের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে বর্তমানে জমা আছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা। তার স্ত্রীর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৬১৩ টাকা। আর তার নিজের রয়েছে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। এর একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট সোনালী ব্যাংক–এ, যেখানে জমা আছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। অন্যটি তার বেতনভিত্তিক অ্যাকাউন্ট, যার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে বেতন, যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য সরকারি ভাতার লেনদেন সম্পন্ন হতো।

আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি মোট ১৬ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। মাসিক গড় বেতন ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হিসেবে ধরে ভাতাসহ সব ধরনের লেনদেন এই সেলারি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়েছে। বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টে মোট স্থিতি রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা। সব মিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টে বেতন ও অন্যান্য উৎস থেকে মোট জমা হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং উত্তোলন বা ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। তার দুটি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে বর্তমানে মোট জমা রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement