কী ঘটেছিল ইবি শিক্ষিকার সাথে? সামনে এল প্রকৃত সত্য

কী ঘটেছিল ইবি শিক্ষিকার সাথে? সামনে এল প্রকৃত সত্য ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৩১, ৪ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়–এর সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া লুনার ওপর ছুরি হামলার অভিযোগ উঠেছে ফজলু নামের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

হামলার পর অভিযুক্ত নিজ গলাতেও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি ওই বিভাগের সাবেক কর্মচারী বলে জানা গেছে।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীন সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বেতনসংক্রান্ত জটিলতার পর ফজলুকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ বদলিজনিত ক্ষোভ থেকেই তিনি এ হামলা চালিয়েছেন।

ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য জানান, তারা চারজন একসঙ্গে বসে কথা বলছিলেন, সঙ্গে কয়েকজন সাধারণ লোকও ছিলেন। হঠাৎ করেই ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনতে পান। শব্দ শুনে তারা দ্রুত ভবনের ওপরের তলায় উঠে চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেন।

ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে প্রবেশ করলে দেখা যায়, ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। আর ওই কর্মচারী নিজের গলায় নিজেই ছুরি চালাচ্ছেন। পরে দ্রুত প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।

সমাজকল্যাণ বিভাগের এক শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, প্রায় এক থেকে দুই মাস আগে ফজলুকে বদলি করা হয়। তবে তিনি বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না এবং এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেন। শিক্ষার্থীদের ধারণা, প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মচারী হওয়ায় তিনি নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন এবং বদলির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন।

শিক্ষার্থী আরও জানান, তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে এমন চরম পদক্ষেপ নিতে পারেন—এটা কেউ কল্পনাও করেননি।

ঘটনার সময় বিভাগের অন্য শিক্ষক-কর্মকর্তারা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। হাবিব স্যার নামে এক শিক্ষক প্রায় ৩০ মিনিট আগে ডরমিটরিতে চলে যান। বিকেল ৫টায় বিভাগের একটি অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল, আর সেই প্রস্তুতিতে সবাই ব্যস্ত ছিলেন।

এ সুযোগে ফজলু চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে দরজা ভেতর থেকে লক করে দেন বলে জানা গেছে। ম্যাডামের কক্ষ আগে থেকে বন্ধ ছিল না। এরপরই ঘটে এই আত্মঘাতী ও সহিংস ঘটনা।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement