ঈদ ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে: মাহদী আমিন

ঈদ ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে: মাহদী আমিন সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০৩:৩২, ২ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ দফা নির্দেশনার ভিত্তিতে এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনায় ‘দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন’ এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

সোমবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারের ১০টি গণমুখী বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জননিরাপত্তা, চামড়া খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা।

তিনি দাবি করেন, এসব উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়নে ঈদ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সেবাকে আরও জনসম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এককভাবে দূর করা সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে উন্নতি হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার ফলে এবারের ঈদে সেবা ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলকভাবে উন্নতি দেখা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর ১০ দফা নির্দেশনা

১. ঈদযাত্রা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: দীর্ঘ ছুটির সমন্বয় ও সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে যানজট ও ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হয়।
২. শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস: ঈদের আগে পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়।
৩. পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ: অবৈধ পশু প্রবেশ রোধ এবং দেশীয় পশুর সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
৪. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
৫. পরিবহন শৃঙ্খলা: অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
৬. চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন: পশুর হাট ও পরিবহনে অবৈধ চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো হয়।
৭. বিদ্যুৎ সরবরাহ: ঈদের সময় লোডশেডিং কমিয়ে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়।
৮. জননিরাপত্তা: সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়।
৯. চামড়া খাত ব্যবস্থাপনা: ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও লবণ সরবরাহ ঠিক রাখা হয়।
১০. বাজার স্থিতিশীলতা: নিত্যপণ্যের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, এসব কার্যক্রমের ফলে জনগণ এবারের ঈদে তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement