রাজধানী ঢাকায় রোববার (৪ জানুয়ারি) চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে আজ থেকে আগামী কয়েকদিন সারাদেশে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে করে সারাদেশেই শীতের অনুভূতি আরও জোরালো হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, যা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন দেশের তিনটি স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল। সেসব এলাকা হলো নওগাঁর বদলগাছী, পাবনা ও রাজশাহী। সে তুলনায় আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে।
তবে রাজধানী ঢাকার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ঢাকায় আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গতকালের ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তুলনায় সামান্য কম। ফলে নগরবাসীর মধ্যে শীতের প্রকোপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা রোববার দুপুরে জানান, রাজধানীতে শীতের তীব্রতা গতকালের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে এবং এই ধারা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি বলেন, দিনের বেলায় তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে, তবে রাতের দিকে তাপমাত্রা আবার কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আজ রোববার থেকে পরবর্তী দুই-এক দিন সারাদেশে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলেও আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। তবে ১০ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, সাধারণত কুয়াশার পরিমাণের ওপর তাপমাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে। কুয়াশা বেশি হলে তাপমাত্রা কমে যায় এবং শীতের অনুভূতি তীব্র হয়। আগামী কয়েকদিন সারাদেশেই কুয়াশার পরিমাণ বাড়তে পারে।
আজ সকাল ৯টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারাদেশেই শীতের অনুভূতি বজায় থাকতে পারে।
এ ছাড়া সারাদেশের আবহাওয়া অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
চলতি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশের ওপর দিয়ে অন্তত পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।



































