আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী পালিত
Published : ১৯:৫৫, ৮ মে ২০২৬
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মহানায়ক, নোবেলজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ দেশব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।
১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই উজ্জ্বল নক্ষত্র। দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রবীন্দ্রনাথ আজও বাঙালির চিন্তা, চেতনা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, সুরকার, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও চিত্রশিল্পী হিসেবে রবীন্দ্রনাথের অবদান বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য কবিতা, গান, নাটক, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও ছোটগল্প। তার সাহিত্যকর্মে মানবতা, প্রেম, প্রকৃতি, স্বাধীনতা ও জীবনের গভীর অনুভূতি অনন্যভাবে ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও নওগাঁর পতিসরে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন তিনি। বাংলার প্রকৃতি ও মানুষের জীবনধারা তার সাহিত্যকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ রচনার মাধ্যমে এই ভূখণ্ডের সঙ্গে কবিগুরুর সম্পর্ক আরও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।
১৯১৩ সালে কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি-এর জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে তিনি বাংলা ভাষাকে বিশ্ব দরবারে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
এবারের জন্মজয়ন্তীর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’। দিবসটি উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, নওগাঁর পতিসর ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরসহ কবির স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠান।
কুষ্টিয়ার শিলাইদহে তিন দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
এদিকে নওগাঁর পতিসরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানও দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট বরাবরের মতো বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
আগামী ১১ মে বাংলা একাডেমি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করবে। এ বছর রবীন্দ্র গবেষণায় অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ এবং রবীন্দ্রসংগীতে শিল্পী বুলবুল ইসলাম এ সম্মাননা পাচ্ছেন।



































