ঢাবিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনী: উদযাপন হচ্ছে ‘জাতীয় পতাকা উৎসব’
Published : ২২:৪০, ১ মার্চ ২০২৬
জাতীয় পতাকা উৎসব–২০২৬ উপলক্ষে ‘পতাকায় বিপ্লব ও গৌরব’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলা রেকর্ডস।
রোববার (১ মার্চ) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর অপরাজেয় বাংলা সংলগ্ন বটতলায় এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলা রেকর্ডসের সভাপতি জাফর রাজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাওসুল হক, ডাকসুর সাবেক জিএস ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানুল্লাহ আমান।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলা রেকর্ডসের সভাপতি জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, প্রায় তিন যুগ আগে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। কর্মজীবনের এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে পাঁচ বছর প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সেই সময় তিনি লক্ষ্য করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের ইতিহাস অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ তা বিকৃত করতে না পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে জাতীয় আর্কাইভ থাকলেও তা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। অবসর গ্রহণের পর কয়েকজন সহযোদ্ধাকে নিয়ে তাই বাংলা রেকর্ডস প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও আর্কাইভ গড়ে তোলা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাওসুল হক বলেন, জাতীয় পতাকা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।
অসংখ্য মানুষের ত্যাগ, শ্রম, ঘাম ও রক্তের বিনিময়ে এই পতাকা অর্জিত হয়েছে। তাই জাতীয় পতাকা আমাদের ঐতিহ্য, চেতনা, বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরোধিতা করেছে এবং যারা এ দেশের নিজস্ব পতাকা অর্জনের বিরোধী ছিল, তারা আবারও ভিন্নভাবে সক্রিয় হতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান তার বক্তব্যে বলেন, পূর্ব বাংলার মানুষের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে যে স্থানে বর্তমানে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেই স্থানসংলগ্ন কলা ভবনের ডিন অফিসের নিকটবর্তী তৎকালীন গাড়ি বারান্দা থেকে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
তিনি জানান, ডাকসুর তৎকালীন ভিপি আসম আব্দুর রব পতাকাটি উত্তোলন করেন এবং এর নকশা প্রণয়ন করেছিলেন ছাত্রনেতা শিব নারায়ণ দাস, যিনি বর্তমানে আর জীবিত নেই।
বিডি/এএন


































