৬,৫৪৪ প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার, উৎপাদন হবে ৩০০ মেগাওয়াট: মীর শাহে আলম
Published : ১০:৩৫, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টারের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ নিজস্বভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করবে এবং বাকি ১৫০ মেগাওয়াট সরকারের কাছে বিক্রি করা হবে।
কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) মাঠপর্যায়ের কার্যালয়, ওয়াসা কার্যালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভবন এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্র, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি জানান, কর্মসূচির আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে এসব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে একটি পরিকল্পিত ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে।
সরকারি ভবনের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করার এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে এটি একটি বড় কর্মসূচি হিসেবে কাজ করতে পারে।


































