সাভারে মসজিদের মাঠে প্রেশার কুকার বোমা, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ

সাভারে মসজিদের মাঠে প্রেশার কুকার বোমা, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত

উপজেলা প্রতিনিধি, সাভার

Published : ১৮:৩৫, ১৩ আগস্ট ২০২৬

ঢাকার সাভারে মসজিদের মাঠ থেকে প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে সাভারের সাধাপুর এলাকায় একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকারটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মসজিদের মাঠে পড়ে থাকা ড্রামটি দেখে সন্দেহ হলে তাঁরা সেটির ভেতরে প্রেশার কুকার দেখতে পান। পরে সেটি মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক ইমরান হোসেন জানান, খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এসে প্রেশার কুকারটির ভেতরে থাকা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় বিকট শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রাতের বেলায় ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে যায়। তাঁদের শনাক্তে কাজ চলছে।

সাভারে আগের রাতেও বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার

সাধাপুরে বোমা উদ্ধারের আগের রাতেই সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১টি পাইপ বোমাসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

এর আগে মঙ্গলবার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে মোহাম্মদ আরিফ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দক্ষিণ শ্যামপুরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের জব্দ তালিকা অনুযায়ী, বাড়িটির একটি কক্ষ থেকে বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, রাসায়নিক পদার্থ, বারুদ, গানপাউডার, বৈদ্যুতিক তার, বিয়ারিং বল, নাইট্রিক অ্যাসিড ও প্লাস্টিকের কনটেইনার উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সাভার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরিফসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।

বড় নাশকতার পরিকল্পনার দাবি

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বোমা উদ্ধার এবং বিস্ফোরণের কয়েকটি ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, এসব ঘটনার পেছনে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লা, ফেনী, উত্তরা, মতিঝিল ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে নাশকতার সম্ভাব্য পরিকল্পনা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ

সিটিটিসি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হেমায়েতপুর থেকে গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আরিফের কাছ থেকে কয়েকটি বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দক্ষিণ শ্যামপুরের বাড়িটির বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি তদন্তকারীদের।

পুলিশের দাবি, আরিফ নিষিদ্ধ নব্য জেএমবির সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ছিল। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে ছিলেন তিনি এবং পরে মুক্তি পান।

তদন্তকারীরা বলছেন, সাভারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন বর্তমানে পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তদন্তে নজরে একাধিক ঘটনা

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের শেষ দিক থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় একই গোষ্ঠীর সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, যশোরে গ্রেনেড ও অস্ত্র উদ্ধার, যাত্রাবাড়ীতে বোমা বিস্ফোরণ, উত্তরা ও মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনাও রয়েছে।

তবে সাভারের সাধাপুরে উদ্ধার হওয়া বোমা এবং দক্ষিণ শ্যামপুরের অভিযানের সঙ্গে এসব ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement