ছেঁউড়িয়ায় শুরু লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের উৎসব
Published : ১১:০২, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও জাতিগত বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান গেয়েছেন বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁই। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবপ্রেম ও জাতপাতহীন মানবধর্মের দর্শন আজও দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সেই মানবতাবাদী সাধকের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় তাঁর আখড়াবাড়িতে বসেছে সাধু-ভক্তদের মিলনমেলা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন। আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে শেষ হবে উৎসব।
লালন একাডেমির আয়োজনে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উৎসবকে ঘিরে আখড়াবাড়িতে চলছে নানা আয়োজন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে সাজিয়ে তোলা হয়েছে প্রাঙ্গণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন লালনভক্ত, বাউল সাধক ও দর্শনার্থীরা।
‘যেখানে সাঁইর বারামখানা’—লালন সাঁইয়ের এই আধ্যাত্মিক বাণীকে ধারণ করে প্রতিবছর তাঁর স্মৃতিবিজড়িত আখড়াবাড়িতে আয়োজন করা হয় তিরোধান দিবসের স্মরণোৎসব। ১৮৯০ সালে লালন সাঁইয়ের দেহাবসানের পর থেকেই তাঁর ভক্ত-অনুসারীরা ছেঁউড়িয়ায় দিনটি পালন করে আসছেন। উৎসবে সাধুসঙ্গ, আলোচনা এবং লালনের মরমি গানের আসরে মিলিত হন সাধক, গুরু ও ভক্তরা।
তিন দিনব্যাপী উৎসবে প্রতিদিন সন্ধ্যায় আখড়াবাড়ির মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। পাশাপাশি পরিবেশিত হবে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী দর্শন ও আধ্যাত্মিক চেতনায় সমৃদ্ধ গান। তাঁর জীবনদর্শন, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা ও মানবতার বাণী নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
কালীগঙ্গার তীরে গ্রামীণ মেলা
তিরোধান দিবস উপলক্ষে আখড়াবাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালীগঙ্গা নদীর তীরে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা। বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রীর পসরা নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। মেলাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। অন্যদিকে, আখড়াবাড়িতে বাউল সাধক ও ভক্তদের আনাগোনায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি
উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে এবার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে উৎসবে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
লালন সাঁইয়ের জীবনদর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে বসে এই স্মরণোৎসব। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। এবারও বাউল সাধক, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হচ্ছে লালনের স্মৃতিবিজড়িত আখড়াবাড়ি।




























