নেত্রকোণায় সাংবাদিক হত্যার তিন দিনের মাথায় যুবককে গুলি
Published : ১২:১৯, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার তিন দিনের মাথায় এবার জেলার মোহনগঞ্জে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সুজন পাল (৩৩) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের মাইলোড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মন্দিরের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সুজন পাল নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার মেহেন্দিপুর গ্রামের জিতেন্দ্র পালের ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জ পৌরশহরের একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করেন। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মাইলোড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা সুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
সুজনের স্ত্রী টুম্পা পাল জানান, রোববার ভোরে ঘুম থেকে উঠে তিনি বাসার পাশের সড়কে যান। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী দুই ব্যক্তি তাঁর কাছে দুবাইপ্রবাসী পলাশ সাহার বাড়ির অবস্থান জানতে চান। তাঁদের একজন অস্ত্র বের করলে সুজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাঁকে গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
প্রতিবেশীরা জানান, গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাঁরা সুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলক কান্তি তালুকদার বলেন, সুজনের পিঠে গুলি লেগেছে। সকালে তাঁকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) সাব্বির হাসান, মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ নিহত হন। এর তিন দিনের মাথায় জেলায় আবারও গুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



























