প্রয়াত বিএনপি নেতার স্ত্রীকে দেওয়া সেলাই মেশিন ফেরত, রাজনৈতিক চাপে বিতর্ক

প্রয়াত বিএনপি নেতার স্ত্রীকে দেওয়া সেলাই মেশিন ফেরত, রাজনৈতিক চাপে বিতর্ক ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:৩৩, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ঝুমা আক্তারকে উপহার দেওয়া একটি সেলাই মেশিন ফেরত নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেশিন দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি ফেরত দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না, তা নিয়ে জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর জামষাইট গ্রামে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে সেলাই মেশিনটি ফেরত নেওয়া হয়।

ঝুমা আক্তার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তাঁর স্বামীর এক বন্ধু সেলাই মেশিনটি দিয়েছেন বলে তিনি জানতেন। তবে এটি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, তা তাঁর জানা ছিল না। পরে বিষয়টি জানার পর এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তিনি মেশিনটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজেকে বিএনপি পরিবারের সদস্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ইউনিয়ন জামায়াতের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে মেশিনটি দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর ঝুমা আক্তার তাঁকে ফোন করে মেশিনটি নিয়ে যেতে বলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেটি ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, পরিবারটি অসচ্ছল হওয়ায় মানবিক বিবেচনায় সেলাই মেশিনটি দেওয়া হয়েছিল। এর আগেও গোপনে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। তবে সহায়তার কারণে পরিবারটি কোনো ধরনের চাপের মুখে পড়ুক, তা তাঁরা চান না।

অন্যদিকে, বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের দাবি, মাওলানা ইদ্রিস আলী ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্ধুর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে মেশিনটি দিয়েছিলেন। পরে বিষয়টিকে জামায়াতের সহায়তা হিসেবে প্রচার করায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। এ কারণে পরিবারটি মেশিনটি ফেরত দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী বলেন, সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর ভাষ্য, জামায়াত দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তবে বিএনপির কেউ চাপ প্রয়োগ করে মেশিনটি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকলে, সেটি তাদের বিষয়।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, মেশিনটি ফেরত দেওয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল না। তাঁর দাবি, ওই নারীর স্বামীর এক বন্ধু ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে মেশিনটি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হলে ঝুমা আক্তার ক্ষুব্ধ হয়ে মেশিনটি ফেরত দেন। পরিবারটির জীবিকা নির্বাহে ঝুমা আক্তারের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

আনোয়ার হোসেন আরও জানান, সংসদ সদস্যের উদ্যোগে পরিবারটির জন্য শৌচাগার নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন ও বাড়ি মেরামতের কাজ চলছে। পাশাপাশি ঝুমা আক্তারের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্থানীয় জামায়াত নেতারা উত্তর জামষাইট গ্রামে গিয়ে ঝুমা আক্তারের হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেন। সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তিন মেয়েকে নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন ঝুমা আক্তার। তাঁর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই মেশিনটি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন জামায়াত নেতারা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement