নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলার পথে প্রধানমন্ত্রী

নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলার পথে প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৫০, ২২ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার দাকোপ উপজেলার দুর্গম উপকূলীয় জনপদ নলিয়ান সফর শেষে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সেখানে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট ও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে থাকা নলিয়ানবাসীর মধ্যে তাঁর সফর ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। পরে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান তিনি। সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে সেখান থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

এর আগে নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষায় থাকা শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন তারেক রহমান। তাঁকে দেখতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে দুর্গম এ জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এ ছাড়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নলিয়ানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশে পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। হেলিকপ্টার অবতরণের স্থান বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াড দিয়েও তল্লাশি চালানো হয়।

সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সঙ্গে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নলিয়ানে অবতরণ করে সেখান থেকে নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটির উদ্দেশে যাত্রা করেন। মোংলায় সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বন্দরটির জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।

এদিকে সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তবে উন্নয়ন প্রত্যাশার পাশাপাশি নলিয়ানবাসী নদীভাঙন প্রতিরোধ, সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানও চান। তাঁদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে দুর্গম উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement