চাঁদাবাজির অভিযোগ না পেলেও মামলা করতে পারবে পুলিশ: আইজিপি
Published : ১৭:৪১, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ অভিযোগ করতে না চাইলে পুলিশ নিজ উদ্যোগে মামলা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে—এমন বিধান যুক্ত করতে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তাঁর আশা, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে নতুন আইন হতে পারে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পুলিশ লাইন্সে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আইজিপি। এ সময় তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের অনেকেই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ে থেকে অপরাধ চালায়। এ কারণে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রায়ই নিরাপত্তার ভয়ে অভিযোগ বা সাক্ষ্য দিতে চান না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে নিজ উদ্যোগে মামলা করার ক্ষমতা দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আইন প্রণয়ন ও সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে আইজিপি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আবার বল প্রয়োগ না করলে দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি কাটিয়ে কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে সারা দেশে যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।
দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে সমাজে মাদককে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, যেন এটি স্বাভাবিক বিষয়। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ওই সময়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশি কার্যক্রম অনুপস্থিত থাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেছে। বর্তমানে সব জায়গায় পুলিশ কাজ করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বেকারত্বসহ নানা সমস্যা থাকায় অল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
পুলিশকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ মানবিক ও জনবান্ধব হতে চায়। কিন্তু অনেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার পরও তারা অল্প সময়ের মধ্যে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের অপরাধীদের পুনরায় অপরাধে জড়ানো ঠেকাতে কী করা যায়, তা নিয়ে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী।

































