জিয়াউলের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া

জিয়াউলের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:১৪, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম মামলায় সাক্ষ্য দেবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই তথ্য জানা গেছে।

এর আগে, শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যা করার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ১৪ জানুয়ারি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জিয়াউল আহসান অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। তার আইনজীবী মনসুরুল হক ও নাজনিন নাহার ট্রাইব্যুনালের কাছে জানান, আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন যে অভিযোগগুলো এনেছে, সেগুলোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে, চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে আসামির বিরুদ্ধে প্রমাণ ‘প্রাইমা ফেসি’ হিসেবে পাওয়া গেছে। তিনি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য করেন।

এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের জন্য শুনানি করেন। সেখানে তিনি সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে আটক সজলসহ তিনজন বন্দিকে জিয়াউল ও তার দল গাজীপুরের দিকে নিয়ে যান। ঢাকা বাইপাস সড়কে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে বন্দিদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদের মোহনায় জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ড চালানো হতো। গভীর রাতে ট্রলার বা নৌকায় লাশগুলো নদীর মাঝে ফেলে দেওয়া হতো।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ধরনের অভিযান ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে পরিচালনা করা হতো। এই অভিযানে সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছিল।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা হতো। আগে আটক বা গুম থাকা ব্যক্তিদের বনদস্যু হিসেবে সাজিয়ে গভীর রাতে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখানো হতো।

এসব অভিযানে র‍্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অংশ নিতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই উপস্থিত থাকতেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে তিনটি অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement