আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায়ের তারিখ ঘোষণা করল আদালত

আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায়ের তারিখ ঘোষণা করল আদালত ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৫২, ৫ মার্চ ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রথম প্রাণ হারানো রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আগামী ৯ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার জন্য ওই দিন নির্ধারণ করেন।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ৩০ জুন মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-২। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহ মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

এই মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ আরও অনেকে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ৬ জন হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই সময় ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।

২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে নিরস্ত্র অবস্থায় পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের আহত হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সোচ্চার হয়ে ওঠেন, যা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে আরও তীব্র ও গতিশীল করে তোলে।

পরবর্তীতে ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা।

চব্বিশ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে তৎকালীন সরকার, তাদের দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং প্রশাসনের একাংশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ একের পর এক জমা পড়ে। এসব অভিযোগের বিচারকার্য বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement