পাকিস্তান থেকেও বগি-ওয়াগন কিনতে চায় বাংলাদেশ
Published : ১২:৫২, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উষ্ণ হয়েছে।
ইতোমধ্যে অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের অংশ হিসেবেই এবার পাকিস্তান থেকে ট্রেনের বগি ও মালবাহী ওয়াগন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ ও লাহোরের মুঘলপুরায় অবস্থিত পাকিস্তান রেলওয়ের ক্যারিজ ফ্যাক্টরি ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তারা ট্রেনের বগি, ওয়াগনসহ বিভিন্ন রেল সরঞ্জাম তৈরির প্রক্রিয়া সরেজমিনে দেখেন।
পাকিস্তান রেলওয়ের লাহোরভিত্তিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স সচিব এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন খান গত শুক্রবার মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন।
ওয়ার্কশপের প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নাসির খালিলি বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে পুরো ওয়ার্কশপের কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রেলওয়ের চলমান প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। পাশাপাশি ওয়ার্কশপের কর্মকাণ্ড নিয়ে তৈরি একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্রও তাদের দেখানো হয়।
এরপর প্রতিনিধি দলকে মুঘলপুরার লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের জানানো হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বলেন, এই সফর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে পাকিস্তান রেলওয়ে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলি ও আর্জেন্টিনাসহ চারটি দেশে ব্রডগেজ লাইনের জন্য ওয়াগন ও বগি সরবরাহ করছে।
পাক রেলওয়ের কর্মকর্তা খালিলি জানান, শিগগিরই বাংলাদেশের রেলওয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল পাকিস্তান সফরে যাবে। ওই সফরে তারা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করবেন।
ডনকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ওয়াগন ও বগি কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে, তবে পাকিস্তানের প্রতিও ঢাকার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে রেলওয়ে টু রেলওয়ে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, এ ধরনের সহযোগিতায় উভয় দেশই উপকৃত হবে।
বিডি/এএন



































