মেক্সিকোতে মাদক কার্টেলদের লাগামহীন সহিংসতা এবং সরকারের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমের সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ চালান। এই পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন যুবনেতা জেন-জি। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ১০০ জন পুলিশ কর্মকর্তা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে সম্প্রতি শহরের মেয়র কার্লোস মানজোর হত্যাকাণ্ডকে বলা হচ্ছে। মানজো তার শহরে মাদক পাচারকারী গ্যাং ও কার্টেল সহিংসতা নিয়ে সরাসরি কথা বলতেন এবং সশস্ত্র কার্টেল সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাতেন।
১ নভেম্বর ডে অব দ্য ডেড উৎসবে অংশগ্রহণকালে মানজো গুলিবিদ্ধ হন। বিক্ষোভকারীরা ‘আমরা সবাই কার্লোস মানজো’ লেখা ব্যানার ধরে স্লোগান দেন এবং প্রয়াত মেয়রকে সম্মান জানাতে কাউবয় হ্যাট পরেন।
মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা প্রধান পাবলো ভাজকুয়েজ জানান, বিক্ষোভকারীরা জাতীয় প্রাসাদের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে চললেও একদল ব্যক্তি সহিংসতা শুরু করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এতে প্রায় ১০০ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন, তাদের মধ্যে ৪০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। এছাড়া ২০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হন। একটি সংবাদপত্রের সাংবাদিকের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতি ও হামলার অভিযোগে পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম দাবি করেন, অন্যান্য শহরে যে পদযাত্রা হয়েছে, তা তার সরকারের বিরোধী ডানপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, তরুণরা তাদের দাবি জানাতে পারে, আমরা তা সমর্থন করি, তবে এই বিক্ষোভকে কারা চালাচ্ছে, জনগণ তা জানতে চাই।
শেইনবাউম ২০২৪ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরে তার জনপ্রিয়তা ৭০ শতাংশের বেশি ছিল। তবে বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে তার নিরাপত্তা নীতি ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।



































