কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে রূপগঞ্জবাসীর মানববন্ধন
Published : ২০:০২, ২৮ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনের নেতারা ও স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন আহ্বায়ক/সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ। এ সময় আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম, সার্জেন্ট ইলিয়াস পারভেজ, আবদুস সালাম, আহসান উল্লাহ মাস্টার, আইনজীবী নাজমুল ইসলাম ও প্রভাষক নুর সালাম বক্তব্য দেন।
বক্তারা জানান, তাঁদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। স্থানীয় কৃষিজমি, বসতভিটা ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতেই তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন।
লিখিত বক্তব্যে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে জমি, কৃষিজমি ও বসতভিটার ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, কিছু এলাকায় জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণের মতো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা আরও দাবি করেন, ২০১০ সালে দুই ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার প্রায় ৭ হাজার বিঘা কৃষিজমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের প্রতিবাদের সময় হামলা ও মামলার ঘটনাও ঘটেছিল বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। পরবর্তী সময়ে বালু ভরাটের কারণে কিছু কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তাঁদের দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন জমিকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্পের সীমানা নির্দেশক নকশা তৈরির বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সীমানা, নকশা ও জমি অধিগ্রহণ বা ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানান।
এদিকে রূপগঞ্জের ইচ্ছাখালী খাল ভরাটের অভিযোগও তুলে ধরেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, খালটি দীর্ঘদিন ধরে নৌচলাচল, কৃষিজমিতে সেচ এবং মাছ আহরণের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খালটি সংকুচিত বা ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষের জলাবদ্ধতার সমস্যা বাড়তে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দ্রুত খালটি পুনঃখনন, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং নৌচলাচলের উপযোগী করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে মোট নয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমি ক্রয় বা আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করা, ইচ্ছাখালী খাল পুনঃখনন, আবাসন প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সীমানা ও নকশা প্রকাশ, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি সুরক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
বক্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধান চান তাঁরা।



























