ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ, ভিডিওতে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত

ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ, ভিডিওতে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত (বাঁ থেকে) মনিরুল হাওলাদার, শিপল মাহমুদ বিপ্লব, ইলিয়াস মিয়া ও আলতাফ

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:২৫, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির ভেনিসের মেস্ত্রে শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভিডিওগুলোতে কয়েকজনকে নিজেদের ‘ইতালি ছাত্রলীগের সদস্য’ হিসেবে পরিচয় দিতে শোনা যায়। একইসঙ্গে তাদের বাঁধনের দিকে ডিম, কোক ও পানি ছুড়ে দিতে, হুমকি দিতে এবং শারীরিকভাবে আঘাতের চেষ্টা করতে দেখা যায়।

স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর মেস্ত্রের একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গেলে বাঁধন এ ঘটনার শিকার হন বলে জানা গেছে।

পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বাঁধন অভিযোগ করেন, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করেন। এ সময় তার গায়ে কোক ও ডিম ছোড়া হয়, শারীরিকভাবে আঘাতের চেষ্টা করা হয় এবং তার মুঠোফোন ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়।

‘জুলাই জঙ্গি’ বলে স্লোগানের অভিযোগ
ঘটনার সময় ধারণ করা একটি লাইভ ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনকে উদ্দেশ করে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ডিম আনো, ডিম আনো।’

এ সময় কয়েকজন নিজেদের ‘ইতালির ছাত্রলীগ’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের ‘প্রতিহত’ করার হুমকিসদৃশ বক্তব্য দেন বলেও ভিডিওতে শোনা যায়।

চিৎকার-চেঁচামেচির একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘বাচ্চা আছে আমার, কী করছেন এগুলো?’ অন্যদিকে হামলাকারীদের পক্ষ থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে রয়েছে।

লাইভ ভিডিও করা ব্যক্তির পরিচয়
ঘটনার সময় মনিরুল হাওলাদার নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ সম্প্রচার করা হয়। লাইভের ক্যাপশনে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ উল্লেখ করে তাকে ‘উত্তম মাধ্যম’ দেওয়ার দাবি করা হয় এবং নিজেদের ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতালি শাখা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও মনিরুলের স্বজনদের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তার বাড়ি মাদারীপুরে। তিনি একসময় ছাত্রলীগের একটি ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মনিরুল বাংলাদেশ ছেড়ে প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে যান।

ভিডিওতে আরও যাদের পরিচয় শনাক্ত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিপল মাহমুদ বিপ্লব
ভিডিওতে শিপল মাহমুদ বিপ্লবকে বাঁধনের দিকে বারবার পানি ছুড়ে দিতে দেখা যায়। তার বাড়ি শরীয়তপুরে।

স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আগে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

ইলিয়াস মিয়া
ভিডিওতে ইলিয়াস মিয়াকে বাঁধনের দিকে এগিয়ে গিয়ে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ সময় আঘাতটি বাঁধনের হাতে লাগে এবং তার মুঠোফোন মাটিতে পড়ে যায়।

তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতির ছবিও পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আলতাফ পাহাড়
ভিডিওতে আলতাফ পাহাড়কে বাঁধনের কাছাকাছি অবস্থান করে বারবার হুমকি ও আক্রমণাত্মক আচরণ করতে দেখা যায়।

তার বাড়ি শরীয়তপুরে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে ভেনিসে যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ঘটনার তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের প্রশ্ন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বেশ কয়েকজনের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য দেখা গেলেও, ভিডিওর দৃশ্যের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করা যায় না। ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে ইতালির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য বা ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে সহায়ক হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement