সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে উদ্বেগ, সাংবাদিকদের বিচার ও গণমাধ্যম বন্ধের বিধান বাতিলের দাবি
Published : ১৬:২৬, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের অধিকার সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, সাইবার অপরাধ ও অপতথ্য প্রতিরোধের নামে সাংবাদিকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারের আওতায় আনা কিংবা সংবাদমাধ্যম বন্ধ করার বিধান রাখা সমীচীন নয়। একই সঙ্গে মানহানির অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিদ্যমান আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব মতামত উঠে আসে। টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ ১৯টি সংগঠন যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।
বৈঠকে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইন থাকা জরুরি। তবে সরকারের সমালোচনা এবং সাইবার অপরাধকে একভাবে বিবেচনা করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাত বাঁধবেন না, বাঁধলে লিখতে পারব না। পরে আমাদের কাছেই আপনাকে আবার আসতে হবে।’
প্রস্তাবিত আইনে সাংবাদিকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারের সুযোগ রাখার বিষয়টি নিয়েও আপত্তি জানান মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভেজাল ওষুধ উৎপাদনের মতো অপরাধ দমনে ব্যবহৃত ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে সাংবাদিকদের বিচারের ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক সমাজে কতটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির অপরাধের কারণে সংবাদপত্র বা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার বিধান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের সুযোগের অপব্যবহার করে অপছন্দের সংবাদকে ভুল তথ্য কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো ভুল তথ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট মানদণ্ড ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।






























