মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী আটক
Published : ১৮:০৯, ১ নভেম্বর ২০২৬
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা। টানা দ্বিতীয় দিনের আন্দোলনে রোববার (১ নভেম্বর) পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন। শনিবার (৩১ নভেম্বর) থেকে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। রোববারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ডিসি রাকিব খাঁনের ভাষ্য, সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করছেন। আন্দোলনস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের দাবি, মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা নাশকতার কর্মকাণ্ড সমন্বয় করছেন। ঢাকার বাইরে থেকে নেতাকর্মীদের এনে আন্দোলনের মধ্যে সক্রিয় করার কাজও তিনি করেছেন বলে পুলিশের অভিযোগ। সেখানে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। তাঁদের শনাক্ত করে আটকের অভিযান চলছে।
রোববার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের জেরে মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়।
পরে দুপুরে সড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয় পুলিশ। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা মোতায়েন করে সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। তবে কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি বলেও জানান তিনি।
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।





























