শ্রমিক অসন্তোষ: সন্ধ্যায় মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
Published : ১৮:০০, ১ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রমমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে নিয়ে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ছয় থেকে সাতজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকেছেন। বৈঠকে অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের পাশাপাশি আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। মাগরিবের নামাজের পর বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোববার দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনার জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেয়। সূত্র জানায়, শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দুই দিন আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধির মনোনীত ব্যক্তির নাম পেতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সময় লাগায় বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়।
সচিবালয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে শ্রমমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করি, দ্রুততম সময়ে বোর্ড বসবে এবং এটিকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড। আজকে মজুরি বোর্ড গঠন করা হলো। আশা করি, এখন তারা রাস্তা ছেড়ে কলকারখানায় যোগ দেবে।’
শ্রমিকদের আন্দোলন ও কারখানা বন্ধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নেতারা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে আহ্বান জানিয়েছিলেন, রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে এবং শ্রমিকেরা যেন কারখানায় অবস্থান করেন। কিন্তু কয়েকটি কারখানায় অযৌক্তিকভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের বলা হয়েছে, মজুরি বোর্ডের ঘোষণা এখনো আসেনি। অথচ শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতেই সেদিন বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল।
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘আমার মনে হয় এটা খুবই পরিষ্কার, পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন এই কাজগুলো করছে, যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমার মনে হয়, জনগণ ও শ্রমিকরা এ ব্যাপারে পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
ডিসেম্বরকে সামনে রেখে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘অবশ্যই! এটা তো পরিষ্কার।’ তিনি দাবি করেন, একটি ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদককে শ্রমিক সেজে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলা আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছবিও প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। কোন ছাত্র সংগঠনের নেতার কথা বলছেন, জানতে চাইলে তিনি নিষিদ্ধঘোষিত একটি ছাত্র সংগঠনের কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে, মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্বাধীন সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বোর্ডের প্রথম বৈঠকের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার সময়সীমাও জানানো হয়নি।






























