একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
Published : ১৮:১৪, ৪ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প। এ ছাড়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সম্পন্ন আরও পাঁচটি প্রকল্প সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের। প্রকল্পগুলো হলো—বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প; বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন কাজের প্রথম পর্ব; জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়নে উদ্ভাবন প্রকল্প; সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন কেনা এবং পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পরিচালন যানবাহন কেনা।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় বি-টাইপ কর্মকর্তাদের বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ—তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩—খনন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনও অনুমোদন পেয়েছে।
এদিকে, পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সম্পন্ন পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। একনেক সভায় এসব প্রকল্পের বিষয়ে অবহিত করা হয়। প্রকল্পগুলো হলো—দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন; শিশু-কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রথম সংশোধন; ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যান ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।































