সাভার-আশুলিয়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ওসিসহ আহত ১০
Published : ১৪:৫৬, ৪ নভেম্বর ২০২৬
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার পোশাকশিল্প এলাকায় বুধবারও শ্রমিক বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মবিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুপুর পর্যন্ত শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মিয়া এবং শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় ও উলাইল এলাকার আল-মুসলিম কারখানার সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকরা।
সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে সংঘর্ষ চলাকালে শ্রমিকদের শান্ত করতে গেলে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমের ওপর হামলা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। পরে আহত ওসিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন ৭১ টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি রায়হান বিন আমিন, ক্যামেরাপারসন উজ্জ্বল হোসেন এবং স্টার নিউজের সাভার প্রতিনিধি সোহান সিরাজি। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সাভারের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। সকাল থেকেই নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন শ্রমিকরা।
বেলা আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে শ্রমিকরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ সময় আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মবিন নামে একজনকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মিয়া জানান, শ্রমিকদের হামলায় ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের তৎপরতায় সাভারের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তাদের আওতাধীন এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং কোথাও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা নেই। তাঁর দাবি, সকালে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করলেও বহিরাগতদের ইন্ধনে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করে।
তিনি আরও জানান, সাভারের আল-মুসলিম কারখানা থেকে পদ্মার মোড় পর্যন্ত সড়কে শ্রমিকদের পিকেটিংয়ের চেষ্টা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দেয়। ঢাকা জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।


































