এনআইডির বিপরীতে ১৮টি সিম নিবন্ধন, বিপাকে প্রবাসফেরত মালেক

এনআইডির বিপরীতে ১৮টি সিম নিবন্ধন, বিপাকে প্রবাসফেরত মালেক এআই জেনারেটেড

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৬:৪০, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেছেন আব্দুল মালেক (৫৬)। নিজের নামে একটি মোবাইল সিম কিনতে গিয়ে জানতে পারেন, তার এনআইডির বিপরীতে আগে থেকেই ১৮টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে। অথচ তার দাবি, তিনি নিজে কোনো সিমই তোলেননি। বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে কয়েকটি সিম বাতিল করতে পারলেও এখনো সবগুলো বন্ধ করতে পারেননি।

আব্দুল মালেক চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লুধুয়া গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত নোয়াব আলী।

মালেক জানান, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকায় আগে তার জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়নি। দেশে ফিরে প্রায় দুই মাস আগে এনআইডির জন্য আবেদন করেন এবং এক সপ্তাহ আগে কার্ড হাতে পান। এরপর সুজাতপুর বাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে নিজের নামে সিম তুলতে গেলে দোকানদার তাকে জানান, তার এনআইডির বিপরীতে ইতোমধ্যে ১৮টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে।

পরে চাঁদপুরে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে নিবন্ধিত সিমের তথ্য যাচাই করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রবির অধীনে দুটি, বাংলালিংকের চারটি এবং টেলিটকের অধীনে ১২টি সিম নিবন্ধিত পাওয়া যায়।

মালেকের দাবি, রবির দুটি সিম বাতিল করা হয়েছে। বাংলালিংকের চারটি সিম বাতিল করতে তাকে ঢাকায় যেতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে টেলিটকের অধীনে থাকা ১২টি সিমের মধ্যে তিনটি বাতিল করা হয়েছে। বাকি সিমগুলো ধাপে ধাপে বাতিল করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী মালেক বলেন, “আমি তো একটা সিমও উঠাই নাই। এই সিমগুলো উঠাইলো কারা, কী ভালো-মন্দ কাজে ব্যবহার হচ্ছে, কিছুই জানি না। কষ্ট করে সিমগুলো বাতিল করলাম। কিন্তু ভবিষ্যতে আবার যদি ওই চক্র সিম তুলে নেয়, তখন আমি কী করব?”

তিনি আরও জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় শুধু নির্বাচন অফিসেই আঙুলের ছাপ দিয়েছেন। এর বাইরে অন্য কোথাও আঙুলের ছাপ দেননি বলে দাবি তার। তাহলে তার পরিচয়পত্রের তথ্য কিংবা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে কীভাবে এতগুলো সিম নিবন্ধন করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এ ঘটনায় থানায় যোগাযোগ করলে তাকে নির্বাচন অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান মালেক। তার আশঙ্কা, এসব সিম ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটালে এর দায়ে তাকে হয়রানির শিকার হতে হতে পারে।

একজন নাগরিকের অজান্তে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এতগুলো সিম নিবন্ধনের অভিযোগ ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও সিম নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মালেকের দাবি, শুধু সিম বাতিল করাই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে যেন তার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নতুন করে কোনো সিম নিবন্ধন করা না যায়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ডলার বলেন, একজন নাগরিকের অজান্তে তার এনআইডির বিপরীতে ১৮টি সিম নিবন্ধনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও সিম নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কারা এসব সিম নিবন্ধন করেছে, তা শনাক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সুলতানা এলিন বলেন, তার চাকরিজীবনে এ ধরনের ঘটনা প্রথম দেখেছেন। একজন ব্যক্তির আঙুলের ছাপ ছাড়া কীভাবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এতগুলো সিম নিবন্ধন সম্ভব, তা তার বোধগম্য নয়। তবে নির্বাচন অফিসের সার্ভার হ্যাক করা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, এ ঘটনার দায় নির্বাচন অফিসের নয়; সিম কোম্পানিগুলোকেই এর দায় নিতে হবে।

অন্যদিকে, চাঁদপুর বিটিসিএলের সহকারী ব্যবস্থাপক হাসিব আহম্মেদ বলেন, এ ধরনের বিষয় নিয়ে তারা কাজ করেন না। এটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বিষয়।

তবে সিম নিবন্ধনের অভিযোগের বিষয়ে বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরগুলোর কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement