আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস
Published : ১০:৪৭, ৭ নভেম্বর ২০২৬
আজ শনিবার, ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বন্দিদশায় থাকা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। বিএনপির বর্ণনায়, সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
বিএনপির মতে, সিপাহি-জনতার সেই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনা করেন।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিএনপি সাত দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ শনিবার রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করবে বিএনপি। এতে হেঁটে অংশ নিয়ে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ৭ নভেম্বর সারা দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্যের পর কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা শুরু হবে।
রিজভী জানান, শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলা মোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।
শোভাযাত্রার আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে। শোভাযাত্রা সফল করতে বিএনপির মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখাসহ অঙ্গসংগঠনগুলো কাজ করছে বলেও জানান রিজভী।
এদিকে, ৭ নভেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রত্যয়ে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে তৎকালীন ষড়যন্ত্র ও সংকট মোকাবিলার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।
শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা রুখে দিতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসন ও স্বৈরাচারী প্রবণতার দিকে ঠেলে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দল, সরকার ও সামরিক বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আজ শনিবার ছয় ঘণ্টার জন্য টোল ছাড়াই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবেন যানবাহন চালকেরা। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ সুবিধা কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিবসটি উপলক্ষ্যে নির্ধারিত ছয় ঘণ্টা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী সব যানবাহনকে টোল দিতে হবে না।































