পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ, ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ, ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৪৬, ৫ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাম্প্রতিক আন্দোলন ঘিরে বাইরে থেকে উসকানি ও অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আন্দোলনে অর্থ ও জনবল দিয়ে সহায়তার অভিযোগে অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে দেশের সব ব্যাংকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় দেশের কয়েকটি শীর্ষ শিল্পগ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীরা রয়েছেন। তাঁদের কেউ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আবার কেউ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সুবিধাভোগী ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

তালিকাভুক্ত কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব গত ৫ আগস্টের পর দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন সংস্থার মামলায় জব্দ করা হয়েছিল। তাঁদের কেউ কারাগারে, কেউ দেশের বাইরে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত মঙ্গলবার এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, বিশেষ একটি কারণে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪টি পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করছে।

রাজস্ব বোর্ড সূত্রের দাবি, ১২টি শিল্পগ্রুপের মালিক শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। একই অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ তালিকায় আরও রয়েছেন এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসা গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।

এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনে অর্থ জোগানের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি এবং শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী কামাল গাজী এবং শুভ নামের এক ব্যক্তি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের আরও দাবি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম অনলাইনে আন্দোলন ঘিরে কার্যক্রম সমন্বয় করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আন্দোলনের বিভিন্ন স্থানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ১৫০ ব্যক্তি। এ তালিকায় বাহাউদ্দিন নাছিমের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে ইতোমধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement