জামায়াতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ, থাকতে পারেন শিক্ষাবিদ-ব্যবসায়ী ও সাবেক আমলারা
Published : ১২:৪২, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তবে বিভিন্নভাবে দলকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকেন—এমন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নীতিগত বিভিন্ন বিষয়ে দলকে পরামর্শ দেওয়াই হবে এ পরিষদের মূল লক্ষ্য।
দলসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। গত জুনে জামায়াতের সর্বশেষ মজলিশে শুরার বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম জানিয়েছেন, উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আগামী মজলিশে শুরার বৈঠকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
দলীয় সূত্র বলছে, প্রস্তাবিত পরিষদের কাঠামো, সদস্য নির্বাচন, দায়িত্ব এবং নীতিনির্ধারণে এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অনুমোদন পেলে দলের গঠনতন্ত্রে এ বিষয়ে আলাদা ধারা বা উপধারা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কারা থাকবেন উপদেষ্টা পরিষদে?
প্রস্তাবিত পরিষদে সাবেক আমলা, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, কূটনীতি বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দলের শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্য থেকেও কাউকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
জামায়াত নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও অনেক ব্যক্তি দলের রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করেন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রাখেন। তাঁদের জ্ঞান ও পরামর্শ কাজে লাগাতেই একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিষদ গঠিত হলে এর সদস্যরা সরাসরি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন না করে দলীয় নীতিনির্ধারণ, সংগঠন পরিচালনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। ভবিষ্যতে জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাঁদের পরামর্শ নেওয়ার চিন্তা রয়েছে বলে দলসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্যোগ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক কাঠামো আরও কার্যকর করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন ধারা পরিমার্জনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশোধনী প্রস্তাবগুলো পর্যায়ক্রমে সংশোধনী কমিটি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং মজলিশে শুরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংশোধিত বিধানগুলো দলের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
তবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা, গঠনপ্রক্রিয়া ও দায়িত্ব সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

































