বিসিবিকে পাঠানো আইসিসির মেইলে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিস্তারিত

বিসিবিকে পাঠানো আইসিসির মেইলে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিস্তারিত ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:০৪, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যেতে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ দল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিকিউরিটি ম্যানেজার ডেভিড মাসকার সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভারতের অন্তত তিনটি বিষয় বাংলাদেশের দলের জন্য সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

এ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ডিসেম্বরেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আসে।

ডেভিড মাসকার তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশনায় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকে তার ২০২৬ মৌসুমের চুক্তি থেকে মুক্ত করে দেয়।

এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানায়, অনির্দিষ্ট নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তারা চায় আইসিসির বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করা হোক। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারও ঘোষণা দেয়, জনস্বার্থ বিবেচনায় মুস্তাফিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হতাশার কারণে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ রাখা হবে।

এই প্রেক্ষাপটে বিসিবির আবেদনের ভিত্তিতে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ একটি বিশেষ ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ বা ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। বিবিসি বাংলার বরাতে পাওয়া ওই প্রতিবেদনে চারটি প্রধান আশঙ্কার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমত, মুস্তাফিজ ইস্যু। আইসিসির প্রাথমিক মূল্যায়নে পুরো বিশ্বকাপের ঝুঁকির মাত্রা ‘মাঝারি’ হিসেবে ধরা হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটিকে ‘মাঝারি থেকে উচ্চ’ পর্যায়ের হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে যদি ধর্মীয় উগ্রপন্থা সংশ্লিষ্ট কোনো উপাদান জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। অর্থাৎ, তাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা করছে আইসিসি।

দ্বিতীয়ত, দলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ভেন্যু পরিকল্পনা। বেঙ্গালুরুতে প্রস্তুতি ম্যাচের পাশাপাশি কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ম্যাচে দলের জন্য ঝুঁকির মাত্রা ‘মাঝারি থেকে কম’ হিসেবে বিবেচিত হলেও আইসিসি নির্ধারিত ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার ওপর জোর দিয়েছে।

যদিও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা সি ভি মুরালিধর দাবি করেছেন, বিদ্যমান পরিকল্পনায় যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব।

তৃতীয়ত, দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। আইসিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর বড় ধরনের সহিংসতার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ‘মাঝারি থেকে উচ্চ’ পর্যায়ের।

বিশেষ করে যারা গ্যালারিতে বাংলাদেশের জার্সি পরে বা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে খেলা দেখতে যাবেন, তারা উগ্রপন্থীদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, ভারত বা বাংলাদেশে যদি দাঙ্গা কিংবা ধর্মীয় সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে তার প্রভাব সরাসরি মাঠের নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে।

চতুর্থত, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে, সেটিকেও সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছে আইসিসি। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন স্বল্প ও মাঝারি মেয়াদে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement