৭ মিনিটে ৩ গোল, রিয়ালের ঐতিহাসিক জয়; নায়ক এনদ্রিক
Published : ১২:১১, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে এগিয়ে ছিল এএস রোমা। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরলাইন দেখে বিস্মিত হতে হয় সবাইকে। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে রোমাকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছেন বদলি হিসেবে নামা ব্রাজিলিয়ান তরুণ এনদ্রিক।
চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস যাঁরা জানেন, তাঁদের কাছে এমন জয় খুব একটা বিস্ময়কর নয়। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য বারবার দেখিয়েছে মাদ্রিদের ক্লাবটি।
২০০৪ সালে রোমা, ২০২৩ সালে লিভারপুল, ২০২৪ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং এবার আবার রোমার বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নেওয়ার নজির গড়েছে রিয়াল। রোমার বিপক্ষে এই জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে চারটি ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয়ের রেকর্ড গড়েছে তারা।
বদলি এনদ্রিকের জাদু
ম্যাচে রিয়ালের প্রত্যাবর্তনের পেছনে কোচ হোসে মরিনিওর বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৩-১ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ৫৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুস ও ডামফ্রিসকে তুলে এনদ্রিক ও আরদা গুলেরকে মাঠে নামান তিনি। ১৮ মিনিট পর দিয়ামন্দের পরিবর্তে মাঠে নামেন কার্লোস এসপি। শেষ দিকে রিয়ালের তিন গোলেই এই তিন বদলি খেলোয়াড়ের অবদান ছিল।
বিশেষ করে এনদ্রিক ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। ৮৩ মিনিটে রোমার গোলরক্ষক গোলিনিকে পরীক্ষায় ফেলেন এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। ফিরতি বল থেকে গোল করেন এসপি। এরপর নিজের উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে রোমার ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে হেডে গোল করেন এনদ্রিক।
চলতি মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র চার মিনিট। অথচ দ্বিতীয় ম্যাচেই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেন তিনি। প্রতিপক্ষ রোমাও যে তাঁকে দলে নিতে আগ্রহী, সেটি এই পারফরম্যান্সকে আরও আলোচনায় এনেছে।
৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে রেকর্ড
৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের মধ্যে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে ম্যাচ জিতে রেকর্ড গড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রতিপক্ষের মাঠে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে এত দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের নজির আর নেই।
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে এনদ্রিক বলেন, তখনো তাঁর মধ্যে ম্যাচের আবেগ কাজ করছিল। বেঞ্চে বসে ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলার সময় পাশে তাকিয়ে দেখেন, তাঁকে মাঠে নামার জন্য ডাকা হচ্ছে। এত দ্রুত মাঠে নামতে হবে, তা তিনি ভাবেননি। মাঠে নেমে নিজের সবচেয়ে পছন্দের কাজ—ফুটবল খেলতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি।
মরিনিও মাঠে নামানোর সময় কী বলেছিলেন, সে প্রসঙ্গে এনদ্রিক বলেন, কোচের সঙ্গে কথা বলার সময়ই রোমার ম্যালেন আরেকটি গোল করেন। তবে রিয়াল মাদ্রিদ সব সময় লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে। ৩-১ থেকে ৪-৩ ব্যবধানে জয় সেই মানসিকতারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রথমার্ধের দায় নিলেন মরিনিও
প্রথমার্ধে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারার দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন কোচ মরিনিও। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রথমার্ধের দায় কোচের, আর দ্বিতীয়ার্ধের দায় খেলোয়াড়দের। তাঁর মতে, ফুটবল ৯০ মিনিটের কৌশলগত খেলা এবং রোমা সেদিন অবিশ্বাস্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল। প্রয়োজন অনুযায়ী বদলি খেলোয়াড় নামালেও প্রথমার্ধে রোমা তাঁদের কঠিন শাস্তি দিয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
অন্যদিকে, বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভিনিসিয়ুস। সাংবাদিকদের কাছে তিনি জানান, কোচের সিদ্ধান্ত বুঝতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে মরিনিও বলেন, ভিনিসিয়ুসের মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। রোমার দ্বিতীয় গোলের সময় এমন একটি বল হারিয়েছিলেন, যা তাঁর হারানো উচিত ছিল না। তবে খেলায় ভুল হতেই পারে, কোচও ভুল করেন। ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস জয় নিয়ে খুব খুশি ছিলেন বলেও জানান মরিনিও।


































