মানহানির মামলায় ধ্রুব রাঠিকে নতুন সমন দিল দিল্লির আদালত

মানহানির মামলায় ধ্রুব রাঠিকে নতুন সমন দিল দিল্লির আদালত ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১২:১৯, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে ২০১৮ সালে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় নতুন করে সমন পাঠিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত। ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শিরোনামের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিকাশ পান্ডে নামের এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। গুরগাঁওয়ে রাঠির বাসভবনে নতুন সমন পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দিল্লির সাকেত জেলা আদালতের বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল জৈন গত ১২ অক্টোবর নতুন সমন জারির আদেশ দেন। মামলাকারী বিকাশ পান্ডের আইনজীবী সমাক্ষ শর্মা আদালতকে জানান, রাঠি সাধারণত অস্ট্রিয়ায় বসবাস করেন। তবে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। এ কারণে তার কাছে দ্রুত সমন পৌঁছে দিতে নতুন করে সমন জারির আবেদন করা হয়।

এর কয়েক দিন আগে, গত ১০ অক্টোবর গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬-এ নিজের বাসা থেকে আটক হয়েছিলেন রাঠি। তার বাসায় প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত হয়ে তাকে আটক করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছিল।

নির্বাচনি তালিকায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আটকের দুই দিন আগে বেঙ্গালুরুতে সিজেপির আরেকটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন রাঠি।

বুধবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে রাঠি অভিযোগ করেন, গুরগাঁওয়ের বাসা থেকে বের হওয়ার পর সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা নম্বরবিহীন গাড়িতে তাকে অনুসরণ করেন। তার দাবি, পুলিশ তার চলাফেরার ওপর নজর রাখছিল। পাশাপাশি, ১৬ অক্টোবর যন্তর মন্তরে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আরেকটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে তাকে আবারও আটক করা হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মামলাকারী বিকাশ পান্ডে ‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র মোদি’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক পেজের প্রতিষ্ঠাতা। তার অভিযোগ, রাঠির ভিডিওতে তাকে বিজেপির আইটি সেলের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পান্ডের দাবি, ভিডিওতে আরও বলা হয়, সংগঠনটির বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগ প্রত্যাহার করাতে মহাবীর প্রসাদ নামের এক ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ৫০ লাখ রুপি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।

এসব বক্তব্যকে মানহানিকর দাবি করে ২০১৮ সালে রাঠির বিরুদ্ধে মামলা করেন পান্ডে। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ; এগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement