বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথমবার ক্রিকেট-ফুটবল টুর্নামেন্ট, আয়োজন করছে এবিজি
Published : ২২:১৩, ৯ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের মাঠমুখী করা এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি)। ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ’ নামে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল।
আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া অবকাঠামো, করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতা এবং টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি অক্টোবর মাসে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির দুটি ভেন্যু—বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো। ক্রিকেট ও ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচ মাঠে গড়াবে যথাক্রমে ২৫ ও ২৬ অক্টোবর।
অংশ নেবে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের দল
দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিকেট ও ফুটবলে ১০টি করে দল অংশ নেবে। দলগুলো দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। সেমিফাইনালের বিজয়ীরা লড়বে শিরোপার জন্য।
ক্রিকেট ও ফুটবল—উভয় বিভাগের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১০ লাখ টাকা করে প্রাইজমানি। রানার্সআপ দল পাবে পাঁচ লাখ টাকা করে। সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ফ্লাডলাইটের আলোয়।
আগামী ৩ নভেম্বর ফুটবল এবং ১৩ নভেম্বর ক্রিকেটের ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ।
পুরোদস্তুর ক্রীড়া কমপ্লেক্স এবিজি স্পোর্টস সিটি
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বহুমাত্রিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে উঠেছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। এখানে ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, বক্সিং, স্কোয়াশ, ফুটসাল, সাঁতার, প্যাডেল টেনিস ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। দেশীয় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রীড়া আয়োজনের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলাই এই স্পোর্টস হাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এই কমপ্লেক্সের অন্যতম আকর্ষণ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। ফুটবল ভেন্যু হিসেবে ফিফার স্বীকৃতি পাওয়া এই মাঠে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি বসুন্ধরা কিংস ফুটবল ক্লাবের নিজস্ব হোম ভেন্যু। বাংলাদেশের পাশাপাশি উপমহাদেশের ক্লাব ফুটবলেও নিজস্ব স্টেডিয়ামকেন্দ্রিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কিংস অ্যারেনা একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
অন্যদিকে, কিংস অ্যারেনার পাশেই অবস্থিত আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামও ক্রীড়াপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সম্প্রতি এই মাঠে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্টেডিয়ামটি দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোয় নতুন সম্ভাবনার পরিচয় দিয়েছে।
তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করাই লক্ষ্য
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান দেশের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইমরুল হাসান বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময় দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করে আসছে। এবিজি স্পোর্টস সিটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স, যেখানে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার পরিসর বাড়ানোই এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।
টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্রিকেট ও ফুটবল দিয়ে এই আয়োজন শুরু হচ্ছে। প্রথম আসরে ১০টি করে দল অংশ নেবে। তবে আগামী ডিসেম্বর মাসে ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আরও বড় পরিসরে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার ব্যাপ্তি ও পরিসর আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রচলন দীর্ঘদিনের। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্ট নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে একই উদ্যোগের আওতায় ক্রিকেট ও ফুটবল—দুটি জনপ্রিয় খেলাকে কেন্দ্র করে করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতায় বড় পরিসরের প্রতিযোগিতা আয়োজন এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু, আকর্ষণীয় প্রাইজমানি, ফ্লাডলাইটে খেলা এবং টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা এই আয়োজনকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রচলিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বাইরে নতুন মাত্রা দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি এবং নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্রীড়াভিত্তিক যোগাযোগ ও সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশও আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ কেবল একটি ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের খেলাধুলাকে আরও সংগঠিত, আকর্ষণীয় ও দর্শকনির্ভর করে তোলার একটি উদ্যোগ। প্রথম আসরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডিসেম্বরে বৃহত্তর আয়োজন বাস্তবায়িত হলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন একটি ধারার সূচনা হতে পারে।


































