পরকীয়ার সন্দেহে নারীকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার নেই
Published : ১১:১০, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামে পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে ৪০ বছর বয়সী এক নারীকে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া ও শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, করাতিপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর ওপর নির্যাতন চালান।
ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে তিনি করাতিপাড়া প্রামাণিক পাড়ায় নিজের বাড়িতে ছিলেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ তাঁর বাড়িতে গিয়ে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাঁকে সতর্ক করে চলে যান। কিছুক্ষণ পর আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন। তাঁদের সঙ্গে বাক্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই নারীর চুল কেটে দেওয়া হয় এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই নারীর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছ থেকে তিনি চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর রাতেই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর ছেলে জানান, মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে তিনি কয়েকজনকে তাঁর মাকে মাটিতে ফেলে শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগাতে দেখেন। বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। আনোয়ার হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তাঁদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে রয়েছেন। স্থানীয় আরও একজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।





























