টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর, পাল্টাপাল্টি মামলা
Published : ১২:৩৫, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধরের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে শিশুটির অভিভাবক শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এর আগে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার বাবা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন। এতে শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের প্রতিবাদে একই দিন টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রথম শ্রেণির সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসার খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন শিশুটির বাবা। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ওই মামলায় মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলার এজাহার ও প্রতিষ্ঠানটির সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন শাহজালাল রুমি ১০ থেকে ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় অধ্যক্ষের কক্ষের কাচ ও বৈদ্যুতিক বোর্ড ভাঙচুর করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, শিশুটিকে ‘ব্যাড টাচ’ করার অভিযোগ তুলে খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের মাথায় ভারী স্টেপলার দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন এবং তাঁর পোশাক ছিঁড়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাধা দিতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, উপাধ্যক্ষ এবং নিরাপত্তাপ্রহরী দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীকেও মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অধ্যক্ষের কক্ষের একটি ড্রয়ারে জমি কেনার জন্য রাখা নগদ ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। অধ্যক্ষের দাবি, ঘটনার ভিডিও মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মাওলানা ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষে পড়ছেন। তিনি প্রতিদিন মাত্র তিন ঘণ্টা খণ্ডকালীন ক্লাস নিতেন।
অধ্যক্ষের দাবি, উপাধ্যক্ষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ছুটিতে থাকায় প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। এই সুযোগে মোসলেম উদ্দিনকে উপাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বহিরাগতদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসায় হামলা করা হয়েছে এবং জমি কেনার জন্য রাখা ১৭ লাখ টাকা লুটের প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর, প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর বা তাণ্ডব চালানো গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে শাহজালাল রুমিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, তিনি বহিরাগতদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এর আগে ‘শানে সাহাবা খতিব ফাউন্ডেশন’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা মব সংস্কৃতির নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।






























